সাভারে সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ,ড্যাফোডিলে সাংবাদিক সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার,২৮ অক্টোবর ২০২৫(বিবিনিউজ):ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সিটি ইউনিভার্সিটি চার দিনের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সোমবার সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড.লুৎফর রহমান এ তথ্য জানান এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য ২৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করেন। পরে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছেন। এদিকে সংঘর্ষে জড়িত ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ১১ জন শিক্ষার্থী আটক থাকার পরে বিকাল তিনটার দিকে তাদেরকে আহত অবস্থায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে সিটি ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষ। এছাড়া মিরপুর বিরুলিয়া সড়ক অবরোধ থাকার পরে তিনটা থেকে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক সুলতান মাহমুদ দুটি ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। ড্যাফোডিলের সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্টিত হচ্ছে বলে জানান সহকারী পরিচালক জনসংযোগ আনোয়ার হাবিব কাজল।
রবিবার দিবাগত রাতে সাভারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে সিটি ইউনিভার্সিটি ধ্বংসস্তপে পরিনত হয়েছে। সিটি ইউনিভার্সিটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন ধ্বংসস্তুপ। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছে দুই শতাধিক। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায চলে গেছে। সেই রাত ১২ টা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে প্রশাসনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,গতরবিবারকাল সন্ধ্যা সাত টার দিকে সাভারের খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী রাস্তায় থুথু ফেলতেই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ওই শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। এর ফলে সেখানে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি বাকবিত-াসহ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ যার যার গন্তব্যে চলে যায়। পরবর্তীতে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ব্যাচেলর প্যারাডাইসের এর বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে উভয় ইউনিভার্সিটির প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতে দফায় দফায় বৈঠক হয়। পরে রাত ১২ টার দিকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রায় কয়েক হাজার উত্তেজিত শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির ভিসি অফিস,রেজিস্টার অফিস, প্রো-ভিসি অফিস, কনফারেন্স রুম, কম্পিউটার ল্যাব, অ্যাকাউন্টস অফিস ভাঙচুর করে এবং দশটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে এসময় লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এসময় এই তান্ডব চলে ভোর চারটা পর্যন্ত চলে। এদিকে দুপুরের দিকে চরম আতঙ্কে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এঘটনায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিরুলিয়া মিরপুর সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এদিকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিরুলিয়া আশুলিয়া সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এঘটনায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
এবিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মুখপাত্র সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন, সমাধানের চেষ্টা করছি। বর্তমানে উভয় ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভেতরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন পরিস্থিতির জন্য মোতায়ন রয়েছে অতিরিক্ত আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্য।

Related posts

Leave a Comment